ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে এবং মাদক ব্যবসায়ীর পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া গ্রাম পুলিশ শাহিন মিয়ার দাবিকৃত এক লাখ টাকা না দেওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ছাগল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত মো. ইকবাল হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ১ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়নের দধিখলা এলাকায় দধিখলা ব্রিজসংলগ্ন গ্রাম পুলিশ শাহিনের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে। এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনের স্ত্রী মোছা. লুৎফা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মো. শাহাদাত, মো. আবু হানিফ, মো. দুলাল মিয়া, মো. সাখাওয়াত, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রুকু প্রকাশ রুকু মিয়া, মো. শাকিল ও মো. লিটন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে ইকবাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইকবাল হোসেনের ভাই মো. গোলাম জিলানীকে তাঁর মুদি দোকানের সামনে রাস্তার ওপর মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কসবা থানায় মামলা করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ইকবালের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধরের সুযোগ খুঁজছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৯ জুলাই সকালে ইকবাল হোসেন তাঁর নাতির আকিকার অনুষ্ঠানের জন্য ছাগল কিনতে কসবা থানাধীন নয়নপুর বাজারে যান। সেখান থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে দধিখলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মো. শাহাদাতের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা অটোরিকশাটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে হাতে ধারালো দা, লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ইকবাল হোসেনকে অটোরিকশা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. শাহাদাত ধারালো দা দিয়ে ইকবালের ডান পায়ের আঙুলের মধ্যভাগে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হন। মো. আবু হানিফ লোহার রড দিয়ে ইকবালের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশে আঘাত লেগে হাড়ভাঙা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. দুলাল মিয়া লোহার রড দিয়ে তাঁর ডান পায়ের টাখনুর ওপর আঘাত করেন। মো. সাখাওয়াত হকিস্টিক দিয়ে ডান পায়ের টাখনুতে এবং মো. রফিকুল ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে বাম পায়ের টাখনুতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অপর অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লাঠিসোঁটা দিয়ে ইকবাল হোসেনের হাত, দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও বেদনাদায়ক জখম হয়। একপর্যায়ে মো. শাহাদাত ইকবাল হোসেনের গেঞ্জির বুক পকেটে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। একই সময় মো. আবু হানিফ তাঁর হাতে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মোবাইলটির মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা এবং এর দুটি IMEI নম্বরও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইকবাল হোসেনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা দুটি ছাগল নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। খবর পেয়ে লুৎফা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে সিএনজিযোগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী লুৎফা বেগম বলেন, স্বামীর চিকিৎসা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন বাদী। তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”