নিজস্ব প্রতিবেদক :
এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে বহুমাত্রিক বাণিজ্য কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। ভারতের সঙ্গে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সেপা) এবং জাপান, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আটটি প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা, সহজ ‘রুলস অব অরিজিন’ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আসতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সরকার নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে রপ্তানি খাতের জন্য অনুকূল বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখা যায়।
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কারও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সঙ্গে এফটিএ, ইপিএ এবং সেপা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি কানাডার ‘জেনারেল প্রেফারেন্সিয়াল ট্যারিফ প্লাস’ সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে তৈরি পোশাক খাতে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, মানবসৃষ্ট আঁশভিত্তিক (ম্যান-মেড ফাইবার) উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং পাট, চামড়া, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই ‘সেপা’ চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছে। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদারে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে দুই দেশ আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় বাণিজ্য তথ্য বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অভ্যন্তরীণ শিল্পের বিকাশ, আমদানি-বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।