ভুয়া পরিচয়ে ৩০ বছরে ৩০০ পাঁচতারকা হোটেলে প্রতারণা, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাঁচতারকা হোটেলে বছরের পর বছর বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন। হোটেলের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর বিল না দিয়েই গা-ঢাকা দিতেন। এমন অভিনব কৌশলে প্রায় তিন দশকে ৩০০টিরও বেশি বিলাসবহুল হোটেলের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন তামিলনাড়ুর ৬৯ বছর বয়সী বিংসন জন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিদেশি ট্যুর গাইড, ইংরেজি শিক্ষক কিংবা যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক পরিচয়ে বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে চেক-ইন করতেন তিনি। কয়েক দিন অবস্থান করে বিল না দিয়েই চলে যেতেন। অনেক ক্ষেত্রে হোটেলের মূল্যবান সামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে পালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ছত্তিশগড়ের রায়পুরের একটি হায়াত হোটেলে দুই দিন অবস্থান করে ৬৩ হাজার ৭৫৫ রুপি বিল পরিশোধ না করেই পালিয়ে যান বিংসন জন। শুধু তাই নয়, প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার রুপি মূল্যের একটি ল্যাপটপও কৌশলে হাতিয়ে নেন তিনি।

হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর রায়পুরের অ্যান্টি-ক্রাইম অ্যান্ড সাইবার ইউনিট এবং তেলিবান্ধা থানা পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করে। মোবাইল ফোনের তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিংসন জন স্বীকার করেছেন, ১৯৯০ সাল থেকে একই কৌশলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০০টিরও বেশি বিলাসবহুল হোটেলে প্রতারণা করেছেন। এর আগে ২০২২ সালেও একই ধরনের অভিযোগে কেরালায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তদন্তে জানা গেছে, হোটেলে উঠেই তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত আচরণ করতেন। তার ব্যবহার দেখে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ অগ্রিম অর্থ ছাড়াই কক্ষ বরাদ্দ দিত। সেই সুযোগ নিয়েই কয়েক দিন থাকার পর বিল পরিশোধ না করে পালিয়ে যেতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিংসন জন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ১৯৮০-এর দশকে দিল্লিতে ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় বিভিন্ন হোটেলে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ পেতেন। পরে একটি বিলাসবহুল হোটেলে অপমানিত হওয়ার পর থেকেই নামী হোটেলগুলোকে প্রতারণার লক্ষ্য বানান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দিল্লির তিহার কারাগারে সাজা ভোগের সময় কুখ্যাত সিরিয়াল প্রতারক চার্লস সোভরাজের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার এই কৌশল রপ্ত করেন।

রায়পুর পুলিশ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে দায়ের হওয়া মামলার তথ্য সংগ্রহ করছে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *