মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের এক কর্মচারীর চাকরিচ্যুতি নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। মো. সেলিম (৪০) নামের ওই কর্মচারী নিজেকে এমএলএসএস দাবি করে চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তবে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের দাবি, সেলিম নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেলিম এসব অভিযোগ করেন। তিনি উপজেলার দাসের হাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাসেমের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে সেলিম বলেন, ২০০২ সালের ১ আগস্ট স্মারক নম্বর ম.ম.ক/২০০২(৯)-এর মাধ্যমে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে এমএলএসএস পদে যোগ দেন তিনি। ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর তাঁর প্রথম এমপিও আদেশ জারি হয়। তাঁর ইনডেক্স নম্বর ৩০০৯০৪৫। এরপর তিনি তিনটি টাইমস্কেল (উচ্চতর গ্রেড) পান। তাঁর দাবি, প্রতিটি রেজুলেশন ও ২০২২ সালের ১ আগস্টের এমপিওতে তাঁর পদ এমএলএসএস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলিমের ভাষ্য, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তাঁকে নৈশপ্রহরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে বরখাস্তকালীন সময়ে খোরপোষ দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রায় সাত মাসে কোনো খোরপোষ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিম আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় কলেজের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতে তাঁকে নির্দেশ দিতেন। সর্বশেষ ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক এম এ বাশারকে হেনস্তা করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। এরপর অধ্যক্ষ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে বিভিন্নভাবে খারাপ আচরণ করতে থাকেন বলে দাবি করেন সেলিম। এ-সংক্রান্ত একটি পুলিশ প্রতিবেদনও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন।
সেলিম বলেন, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে কলেজে গেলে অফিস সহকারী আবু বকর সিদ্দিক তাঁকে জানান, অধ্যক্ষ তাঁকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁকে কলেজে আসতে বারণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
চাকরিচ্যুতির পেছনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়ার প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন সেলিম। তাঁর দাবি, চাকরিচ্যুতির পর ওই পদে শাহজাহান মিয়ার এক ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সেলিম বলেন, “তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোথাও বিচার পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছি।” তিনি চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে বর্তমান ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “সেলিম নাইটগার্ড হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেছিল। সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। নিয়ম মেনেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমি এমএলএসএস সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিইনি, নাইটগার্ড সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ওই পদে নিয়োগ প্রদান করেছি।”
কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, “একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছেলেটাকে (মো. সেলিম, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ওই পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই পদ খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় উল্লেখিত পদে ফিরে আসার কোনো উপায় আছে কি না, তা ভুক্তভোগী ব্যক্তিই বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে কলেজের সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।