স্টাফ রিপোর্টার:
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে সার্ক কালচারাল সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি পিস এম্বাসেডর ডঃ এটিএম মমতাজুল করিম সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সদস্যরা, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সোসাইটির সক্রিয় সদস্যরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কূটনীতিক এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান। তিনি বক্তব্যে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। মসয়ুদ মান্নান বলেন, “সার্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ করা। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের বন্ধুত্বহীন জঙ্গি আচরণের কারণে সার্কের কার্যকারিতা অনেকাংশে বিঘ্নিত হয়েছে। সময় এসেছে সার্ককে পুনরায় গতিশীল ও কার্যকর করার। এ ক্ষেত্রে সার্ক কালচারাল সোসাইটির সদস্যদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় সভাপতির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডঃ এটিএম মমতাজুল করিম বলেন, “মানবতাবাদী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের সকলকে দল-মতের বাইরে এসে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। আমরা সবাই প্রথমে মানুষ, তারপর ধর্ম বা জাতি। সামাজিক সহমর্মিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য আমাদের অবশ্যই ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি এড: মোশারফ হোসেন মনির, আব্দুল জলিল, কবি নজরুল বাঙালি, লায়ন এইচএম ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক সুজন দে, যুগ্ম সম্পাদক ডঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ খায়রুল আলম, রবিউল আলম রবি, সামান্তা শাহিন, মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এম আজমল খান, মোঃ কাইয়ুম খান, আমজাদ হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা করেন। বক্তারা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে তারা মানবিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এককভাবে কোনো ব্যক্তির কাজ নয়। এটি একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টা, যা সকল সদস্যকে একযোগে কাজ করতে হবে। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমতের কারণে সামাজিক বিভাজন এবং দ্বন্দ্ব দেখা যায়। সেক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই বিভাজন দূর করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “সকলের উচিত মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা।” সভায় অংশগ্রহণকারীরা সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল—সদস্যদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করা। বক্তারা বলেন, সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য শুধু নীতি বা আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানবিক উদ্যোগ, সামাজিক সচেতনতা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন।
বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণকারীরা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও আলোকপাত করেন। তারা বলেন, সার্কের আদর্শ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পথের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
সভার সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ডঃ এটিএম মমতাজুল করিম আবারও সকলকে মানবিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সার্কের আদর্শ অনুযায়ী সমাজে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রচার করা। এটি সম্ভব হলে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারব।”
সমাপনীতে উপস্থিত সকল সদস্যদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, মানবিক উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভা সফলভাবে শেষ হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে সার্ক কালচারাল সোসাইটির কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।