রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ-এর স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:


১৮ মে ২০২৬ ইং সোমবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট সকল জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে একযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ।

ঢাকায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান শেষে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম” প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত একটি বৃহৎ ও যুগান্তকারী শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ জাগরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ৭টি পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্তমানে ৮ম পর্যায়ে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ সময়ে এ প্রকল্পের আওতায় ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যায়ে প্রায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ৭ম পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে, যা একটি বিরল সাফল্য। বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রায় ৭১,৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োজিত আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প ভাতা ও অনিশ্চিত অবস্থায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই শিক্ষকগণ শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন— তারা সরকারি তহবিলে যাকাত প্রদানে মুসল্লিদের উৎসাহিত করেন এবং শিক্ষকগণ নিজ উদ্যোগে যাকাত সংগ্রহ করেন থাকেন। পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও তারা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিনা পারিশ্রমিকে অতি স্বল্প সময়ে সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। সর্বোপরি, একটি নৈতিক ও আদর্শ সমাজ গঠনে তারা অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। অথচ তাদের জীবন আজ নিরাপত্তাহীন ও অবমূল্যায়িত।

এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—(১) নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হোক। (২) সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করা হোক। (৩) তাদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা সেলিম জাফর খান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জী, ঢাকা জেলা সভাপতি মাওলানা মোর্শেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম বেলায়েত হোসেন খান। অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা ডা. ইব্রাহিম খলিল, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ এনায়েত হোসেন, আইসিটি সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম বাশার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *