ক্রীড়া ডেস্ক:
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের দল থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগা ও ইমাম-উল-হককে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে নিজের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসন।
হেসনের দাবি, দায়িত্ব পাওয়ার আগেই এই তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তখন দেশে ফেরার বিমানে ছিলেন।
ইংল্যান্ড সফরে টানা দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক পরিবর্তন আনে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর সিরিজ হাতছাড়া হয় পাকিস্তানের। এরপর সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকেও বরখাস্ত করা হয়।
এরপর সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে শেষ টেস্টের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন লাল বলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে রিজওয়ান, সালমান ও ইমামের বাদ পড়া নিয়ে হেসন বলেন, পিসিবি যখন তাকে শেষ টেস্টের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেয়, ততক্ষণে ওই তিন ক্রিকেটারকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারা তখন দেশে ফেরার বিমানে ছিলেন। ঠিক কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তার জানা নেই।
তবে দলের বাকি ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া এবং নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল বলে জানান হেসন। লাহোরে সাদা বলের ক্যাম্প ও এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পর হঠাৎ করে এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলে ভারসাম্য ফেরাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
হেসনের ভাষ্য, তার মূল লক্ষ্য ছিল বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনা এবং একাদশে অন্তত দুজন বোলিং অলরাউন্ডার যুক্ত করা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মূল দল নির্বাচনের দায়িত্বে তিনি ছিলেন না বলেও জানান হেসন। সালমান আগার মতো ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে ক্রিকেটপাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, শুধু বাজে ফর্মের কারণে নয়, বরং শৃঙ্খলাজনিত অসদাচরণের শাস্তি হিসেবেই রিজওয়ান, সালমান ও ইমামকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এমন গুঞ্জনকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইক হেসন।