লম্পট মনিরের শুধু মামলা নয়, ফাঁসির রায় কার্যকর চাই: সাংবাদিক পরিবার

কামরুল ইসলাম:

নগরের দক্ষিণ বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক পরিবারের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় মহাসচিব কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষ প্রমাণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করতে কেউ সাহস না পায়।

পরে বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আসামি মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করেন। এ সময় মনির হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গ্রেপ্তার মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড এলাকার ঘারঘাটা গ্রামের সোনামিয়া বাড়ির মো. আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করছিলেন।

নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হোসাইন কবির ভূইয়া শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বাবা গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছিলেন এবং মা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। এ সুযোগে শিশুটি বাড়িতে ছিল নানীর কাছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মনির হোসেন কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে ৩০–৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবু জাফর রোড চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটর দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গোডাউন কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

আসামিকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় বিকেল চারটার দিকে স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ৩০ জন পুলিশ সদস্য ও ৪ জন সাংবাদিক আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ কৌশলে হেফাজতে নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

রাতে কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়া অংশ অবরোধ করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরে রাত প্রায় দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মনিরকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পৃথক একটি মামলা করেছেন, যার মামলা নম্বর ৩১ (২২.৫.২৬)। মামলায় শুধু মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ বলেন, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার ঘটনায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মনির ওই এলাকায় ‘ভাই ভাই ডেকোরেটর’ নামের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন শিশুটিকে কৌশলে গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির কান্না শুনে নানী গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়রা মনিরকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাকলিয়া থানা পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারের সময় কিছু দুষ্কৃতকারী পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *