
শহিদুল ইসলাম :
ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা জিরাবো বাসস্ট্যান্ড। প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, অবৈধ ভাসমান দোকানপাট, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে এলাকাটি যেন স্থায়ী যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের এই চরম জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রধান সড়কের দুই পাশের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভাসমান দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সড়কের মাঝখানে এবং বাসস্ট্যান্ডের প্রবেশমুখে যত্রতত্র অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং দীর্ঘ সময় পার্কিং করে রাখার কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও জরুরি কাজে বের হওয়া ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সময়মতো কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে ফুটপাত ও সড়ক। ফলে যানজট ও জনভোগান্তি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
জিরাবো এলাকার ব্যবসায়ী মো. রহমত উল্লাহ বলেন, “প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
একাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক জানান, অফিসে দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের তিরস্কার এমনকি বেতন কর্তনেরও শিকার হতে হয়। শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে না পেরে পড়াশোনায় বিঘ্নের মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর মতে, যানজট নিরসনে অবিলম্বে অবৈধ ফুটপাত দখল উচ্ছেদ, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ, সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, জিরাবো বাসস্ট্যান্ড আশুলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এখানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিশৃঙ্খলা শুধু স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।