শিল্পীদের দ্বৈত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন ভাবনা, ‘কোনো মূল্য নেই’

বিনোদন ডেস্ক:

শোবিজ অঙ্গনের চাকচিক্যের আড়ালে থাকা কিছু অপ্রিয় বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে নিজের দেখা ও উপলব্ধির কথা তুলে ধরে তথাকথিত বড় মাপের কিছু শিল্পীর কথাবার্তা ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত ভাবনা। দীর্ঘ সময়ের এই পথচলায় বিনোদন অঙ্গনের নানা বিষয় কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তার দাবি, অনেক শিল্পী প্রকাশ্যে নীতি-নৈতিকতার কথা বললেও ব্যক্তিগত জীবনে তাদের আচরণ সেই বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না।

ভাবনা বলেন, “আমি আসলে মিথ্যা বলব না। খুব ছোটবেলায় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। অনেকবারই শুনতে হয়েছে, ‘ও আচ্ছা, তুমি ড্রিংক করো না?’ এসব কথা আসলে বলাও অনুচিত। তবে অনেককেই দেখা যায় ইন্টারভিউতে বড় বড় নীতিকথা বলতে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা একদমই সুন্দর মানুষ নন। সেটা আমরা সবাই দেখতে পাই।”

নিজের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এখন আর সত্য কথা বলতে ভয় পান না তিনি। জীবনের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তার ভাষ্য, যা বলতে ইচ্ছা করে, সেটিই বলতে চান।

তিনি বলেন, “যারা ইন্টারভিউতে নীতিকথা ছড়িয়ে বেড়ায়, আবার আড়ালে গিয়ে ড্রাগ বা উল্টাপাল্টা জিনিসপত্র সেবন করে এবং সেটাকে এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করে, তারা আমার কাছে শিল্পী হিসেবে কোনো মূল্য বহন করে না।”

একজন শিল্পীর সমাজের প্রতি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করেন ভাবনা। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন শিল্পী হয়েও কেন এমন জীবনযাপন করা হবে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সৈয়দ জামিল আহমেদের উদাহরণ টেনে ভাবনা বলেন, “তার তো কোনো নেশা করতে হয় না! তিনি প্রতিনিয়ত এত কাজ করেন যে তার কাজই তার পরিচয় হয়ে কথা বলে।”

তিনি আরও বলেন, যারা নিয়মিত মাদক বা অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য সেবন করেন, তাদের তিনি প্রকৃত শিল্পী হিসেবে মনে করেন না। নিজের অবস্থান থেকে শিল্পীদের দায়িত্বশীল জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *