মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় শিশুদের ক্রীড়া বিকাশ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬”-এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে আড়াইহাজারের ঐতিহ্যবাহী শহিদ মঞ্জুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই জমকালো ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল আনন্দ-উৎসবের আমেজ। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর ক্ষুদে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, নেতৃত্বগুণ তৈরি করে এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলে। ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে ক্রীড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়াচর্চা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট তার একটি সফল উদাহরণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল খেলাধুলা নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের শিক্ষা অর্জন করছে।”
এছাড়া বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু রাখা সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক।
ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণকারী বালক ও বালিকা দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ছিল দারুণ উদ্দীপনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠজুড়ে তাদের নৈপুণ্য, দ্রুততা ও দলগত সমন্বয় উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। দর্শক সারিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণের ব্যাপক উপস্থিতি পুরো স্টেডিয়ামকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিবৃন্দ ক্ষুদে খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সনদ তুলে দেন। এ সময় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম, যা খেলোয়াড়দের জন্য এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন আড়াইহাজার উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।