মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলেছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত অবস্থান, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ভূমিকা এবং স্টুডিও নির্মাণের স্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মোনায়েম মুন্না লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশে। আমি এই বিষয়ে নাক গলাতে চাইনি কখনোই। কিন্তু সালমান মুক্তাদির বিষয়ক এই ফটোকার্ডটি দেখে আর কিছু না লিখে পারলাম না।’
সালমান মুক্তাদিরের ধূমপান, মদ্যপান ও মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মোনায়েম মুন্না প্রশ্ন করেন, একজন ‘সুফি প্রকৃতির’ মানুষকে নিয়ে কেন এত সমালোচনা হচ্ছে।
পোস্টে তিনি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও করেন। মোনায়েম মুন্নার দাবি, কিশোর বয়স থেকেই তিনি শেখ নুরুল ইসলামকে চেনেন এবং সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় তাকে ‘মাস্তান’ হিসেবে চিনতেন। একইসঙ্গে তিনি শেখ নুরুল ইসলামের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন দাবি করেন এবং সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয় হিসেবে ‘সুইডেন আসলাম’-এর নাম উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করেন, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর বাংলাদেশের ‘সবচাইতে বৃহৎ বৈধ ও অবৈধ মদের কারবারি’। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালমান মুক্তাদির বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও সালমান মুক্তাদিরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না। তার দাবি, ওই নির্বাচনে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী প্রচারণায় সালমান মুক্তাদির অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি সালমান মুক্তাদিরকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলেও উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যুবদল সভাপতি। মোনায়েম মুন্নার দাবি, ওই আন্দোলনকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের ‘প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী’ সালমান মুক্তাদির তিনটি কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক জোয়ারদারের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের কাছে কয়েকটি প্রশ্নও রাখেন মোনায়েম মুন্না।
প্রথম প্রশ্নে তিনি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বিরুদ্ধে থাকা কথিত অভিযোগ সম্পর্কে সালমান জানতেন কি না, তা জানতে চান। তার দাবি, সালমান মুক্তাদির এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং জেনেশুনেই ‘মদ ব্যবসায়ীর মেয়েকে’ বিয়ে করেছেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নির্মাণের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোনায়েম মুন্নার দাবি, স্টুডিওটি যে জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গার মালিক একজন ‘চিহ্নিত ভূমিদস্যু’। তিনি প্রশ্ন করেন, একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও সাধারণত শহরের ভালো ও সুবিধাজনক এলাকায় হওয়ার কথা হলেও মিরপুরের একটি ‘সমস্যা সংকুল’ এলাকায় কেন স্টুডিও নির্মাণ করা হলো।
তৃতীয় প্রশ্নে ওই এলাকার কথিত ভূমি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মোনায়েম মুন্না। তার দাবি, ‘ভূমিদস্যু’ নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মোনায়েম মুন্নার অভিযোগ, সালমান মুক্তাদির ‘গায়ের জোরে বিএনপিকে টেনে এনে’ বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।
পোস্টের শেষাংশে মোনায়েম মুন্না লেখেন, ‘অতএব সাধু সাবধান! বাংলাদেশের মানুষ এই সমস্ত ছদ্মবেশী দুষ্ট লোকদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে পেরেছে।’
তবে মোনায়েম মুন্নার এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে সালমান মুক্তাদিরের কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।