বিনোদন ডেস্ক:
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে নিজের স্টুডিওতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির রাজধানীতে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন তিনি। একই রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওতে ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে সালমান মুক্তাদির বলেন, তাকে জানানো হয়েছে চাঁদা না দেওয়ার কারণে হামলা করা হয়েছে। তবে তার কাছে সরাসরি কোনো চাঁদা চাওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি তিনি পুলিশের কাছ থেকে এবং অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
সালমান মুক্তাদির বলেন, হামলাকারীরা মূলত ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চেয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল ভবনের মালিক; তিনি মাঝখানে পড়ে গেছেন। হামলাকারীরা হয়তো জানতেন না যে সেখানে তার স্টুডিও রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় সালমান বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন এটি তার প্রতি শত্রুতার কারণে হয়েছে। পরে জানতে পারেন, পুরো প্রকল্পেই হামলা চালানো হয়েছে। প্রকল্প নিয়ে কোনো বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানিয়ে সালমান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না। আইনের প্রতি তার কোনো বিশ্বাস নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্টুডিওতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, সেখানে নিয়মিত অনেক শুটিং হয় এবং অনেক মানুষের কাজ থাকে। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় মোট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সালমান আরও বলেন, তিনি থেমে থাকবেন না। দেশে কিংবা বিদেশে থেকে তিনি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার দাবি, বাংলাদেশে তার এই স্টুডিওর মতো আর কোনো স্টুডিও নেই এবং এফডিসিতেও এমন ব্যবস্থা নেই।
এর আগে স্টুডিওতে ভাঙচুরের পর ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট প্রকল্পটির জমির মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ার পর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে তাদের দাবি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন হঠাৎ স্টুডিওতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলায় স্টুডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি।
তবে পুলিশের বক্তব্যে চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল আলম বলেন, নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও হামলার লক্ষ্য ছিল না বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ৩৫ কাঠা জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষের লোকজন নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।