হাইমচরের সড়কে ভয়াবহ ক্ষয়, সুড়ঙ্গের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মোঃ মনির হোসেন:

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী বাজার থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের নিচে সুড়ঙ্গসদৃশ ফাঁপা অংশ তৈরি হয়েছে। উপজেলার চরভৈরবী পাঠান মোড় এলাকায় সড়কের একাংশের নিচের মাটি সরে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের টানা বৃষ্টিপাত, পানির প্রবাহ এবং মাটি ক্ষয়ের কারণে সড়কের নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এই ফাঁপা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বাইরে থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পুরোপুরি বোঝা না গেলেও ভেতরের মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের ধস নেমে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে এবং নিচের অংশে সুড়ঙ্গের মতো ফাঁকা জায়গা দেখা যাচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে পাশের মাটি ধসে যাওয়ার পর বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে সড়কের নিচের মাটি আরও ক্ষয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ সড়কটি হাইমচর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগপথ। আলগী বাজার, চরভৈরবী, হায়দারগঞ্জ, শহর আলী মোড়, হাইমচর বাজার, পাড়া বগুড়া, গাজীপুর, চর আবাবিল ও জালিয়ার চরসহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল থাকে এই সড়কে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন গাজী বলেন, “ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক কাঁপতে থাকে। এতে নিচের ফাঁপা অংশ আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এবং বৃষ্টির সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি সহজে বোঝা যায় না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড বা নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নিজেদের উদ্যোগে গর্তের মধ্যে মাটি, রাবিশ ও বিভিন্ন উপকরণ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে প্রকৌশলগতভাবে সংস্কার না করলে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, উপরিভাগ ভরাট করলেও নিচের ফাঁপা অংশ থেকে গেলে যেকোনো সময় সড়কের বড় অংশ ধসে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের মতে, এই সড়কের ওপর শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলই নয়, নির্ভরশীল রয়েছে শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমও। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে এই পথ ব্যবহার করেন।

তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৌশলগত সমাধানের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *