চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অবস্থিত সাতকানিয়া আদালতে এখনও ১৮৮০ সালে নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শত বছরেরও বেশি পুরোনো এই ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকলেও এখানেই চলছে হাজারো মামলার বিচারকাজ।
স্থানীয় আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই আদালত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পৌঁছেছে। তথাপি এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এখানে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া আদালতে বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে বিচারক, আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের চরম ভোগান্তির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালত ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানিতে আদালত প্রাঙ্গণ প্রায়ই তলিয়ে যায়। এমনকি বিচারকদের জন্য নির্ধারিত বাসস্থানও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে।
এছাড়া আদালত এলাকায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধার অভাব রয়েছে। নেই কোনো গণশৌচাগার, নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, এমনকি আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত স্থানও নেই। গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীরা ইচ্ছেমতো রাস্তায় গাড়ি রাখছেন, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
বর্ষাকালে আদালত চত্বরে পানি জমে থাকায় বিচারক ও আইনজীবীদের যাতায়াত ও কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পানিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
আইনজীবীদের মতে, স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন জরাজীর্ণ পরিবেশে বিচার কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত অমানবিক। তারা দ্রুত একটি আধুনিক ও বহুতল আদালত ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম মানিক বলেন, আদালতের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত আধুনিক আদালত ভবন নির্মাণ জরুরি।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের উদ্যোগে অতি শিগগিরই সাতকানিয়া আদালতের জন্য একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে, যাতে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ কমে আসে।