!স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা:
অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তদন্ত কিংবা আসামি গ্রেফতারের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অপরাধ প্রতিরোধে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে পাবনা জেলা পুলিশ। অপরাধ ঘটার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার উদ্যোগে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাবনায় পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাদের নজরদারি কার্যক্রম ও তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা, মাদক কারবারি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হচ্ছে।
জেলাকে অপরাধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় জেলার ১১টি থানায় প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এসব অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধী আইনের আওতায় এসেছে।
এদিকে সন্ধ্যা ও গভীর রাতে মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে টহল জোরদার করায় ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে দাবি করছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডিবির তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং বিস্তৃত সোর্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাত, মাদক চোরাচালান ও অপরাধমূলক পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের সক্রিয়তা ছিল উদ্বেগজনক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, বাজার, হাট এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে। অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, পাবনাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারির প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাবনা আগামী দিনে দেশের অন্যতম শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।