আজান চলাকালীন কাসেমীর বক্তব্যে ক্ষোভ, গোগনগরে মুসুল্লিদের অসন্তোষ

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের গোগনগর এলাকায় আজান চলাকালীন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। আজান শুরু হলেও বক্তব্য বন্ধ না করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু সংলগ্ন এলাকায়। গোগনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আফজাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ করে আসর নামাজের আজান শুরু হয়। তবে আজান শুরু হলেও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তার বক্তব্য বন্ধ না করে তা অব্যাহত রাখেন। এতে করে পাশের ৮নং ওয়ার্ডের দুটি মসজিদের মুসুল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়

আজান চলাকালীন বক্তব্য চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ মুসুল্লিরা বলেন, একজন ধর্মীয় আলেম ও মুফতির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ তারা প্রত্যাশা করেন না। তাদের মতে, আজানের প্রতি সম্মান দেখানো ইসলামের মৌলিক শিষ্টাচারের অংশ। একজন মুফতি হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসন ও আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব তাঁরই বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি জানান, একজন মুফতির বক্তব্য ও আচরণ সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। সে কারণে আজান চলাকালীন বক্তব্য বন্ধ না করায় ভুল বার্তা যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অনেকেই এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে ধর্মীয় বিষয় ও অনুভূতির প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিতর্ক এড়ানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *