কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে শুরু হওয়া সম্পর্ক এবার বাস্তব রূপ পেল বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জের ইটনায়। হাজার মাইল দূরের দেশ চীন থেকে প্রেমিকার টানে সরাসরি সেখানে হাজির হয়েছেন এক যুবক, যা ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কুষ্টিপুর গ্রামে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এক বিদেশি তরুণ। চীনের হেনান প্রদেশের শিনজিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা গাও ওয়েইইয়ান পেশাগতভাবে চীনের পুলিশ বিভাগে কর্মরত।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে গাও ওয়েইইয়ান ও ঝুমা আক্তারের মধ্যে পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও প্রেমে রূপ নেয়।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও আবেগের টানে গত ১৬ মে রাতে তিনি বাংলাদেশে এসে কুষ্টিপুর গ্রামের নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছান।
গাও ওয়েইইয়ান বলেন, বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা ছিল। শুধু ফোনে কথা বলে আর ভালো লাগছিল না। আমি ঝুমাকে ভালোবাসি, তাই এত দূর থেকে এসেছি। এখানে এসে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা পেয়ে আমি খুশি।
ঝুমা আক্তার কুষ্টিপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তারের মেয়ে। তিনি কুষ্টিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর বর্তমানে চৌগাংগা পুরান বাজার কামিল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।
স্থানীয়রা জানান, বিদেশি যুবককে নিজ গ্রামে দেখে প্রথমে সবাই বিস্মিত হন। পরে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে এলেও তাকে দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ছে।
গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন এই প্রেমকাহিনি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্পর্কটি যেন সম্মানজনক ও নিরাপদ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চীনা যুবক ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বর্তমানে ওই পরিবারের আতিথেয়তায় রয়েছেন। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।