আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের নতুন সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। রোববার (৪ অক্টোবর) কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, নতুন সহায়তা প্যাকেজে অস্ত্রের পাশাপাশি শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের জন্যও সহায়তা রয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ও জার্মানি ১৫টি চুক্তি ও নথিতে সই করেছে। এসবের বেশিরভাগই নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও ক্রয়, জার্মান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অর্ডার এবং ইউক্রেনে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতার মোট মূল্য ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। ড্রোন মোকাবিলায় যৌথ কার্যক্রম আরও বাড়াতেও আলাদা একটি চুক্তি করা হবে বলে জানান তিনি।
জার্মানির ঘোষিত সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি সামরিক সহায়তা এবং প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর জ্বালানি খাতের সহায়তা রয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত, জেনারেটর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে জার্মানি।
এ ছাড়া ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন প্রতিহত করার প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে দুই দেশ। জার্মানি দূরপাল্লার অস্ত্র, যুদ্ধ ড্রোন ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলেও চ্যান্সেলর মের্ৎস জানিয়েছেন।
রোববার সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছান মের্ৎস। সফরের আগে তিনি বলেন, তার বার্তা স্পষ্ট—ইউক্রেন জার্মানির ওপর নির্ভর করতে পারে। কিয়েভে পৌঁছে তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
মের্ৎসের কিয়েভ সফরের সময়ও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং শীতের আগে জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে জার্মানির নতুন সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।