কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি, প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষা আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এর মধ্যেই নিহতদের মরদেহ মর্গে থাকা অবস্থায় রিসোর্টটি রক্ষায় ব্যবসায়ীদের তৎপরতার অভিযোগ নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রিসোর্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে একটি পক্ষ মাঠে নেমেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১০টি পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। স্বজন হারানোর বেদনা কোনো অর্থ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। অথচ এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে রিসোর্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—মানুষের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে কি ব্যবসায়িক স্বার্থ বড় হয়ে উঠছে?
সংশ্লিষ্টদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারগুলো যাতে ন্যায়বিচার ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রিসোর্ট পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই কোনো ধরনের প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের কারণে যেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা যেন অর্থ ও প্রভাবের আড়ালে চাপা না পড়ে। মানুষের জীবনের মূল্য, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হোক এখন প্রধান অগ্রাধিকার।