আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমালিয়ায় ইসরাইলের কোনো ধরনের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরে ইসরাইল নৌঘাঁটি স্থাপন এবং বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।
মোহামুদ বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই সোমালিয়া ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেবে না। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত বারবেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ইয়েমেনের বিপরীত দিকে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
মোহামুদের দাবি, বারবেরায় ইসরাইলের সম্ভাব্য উপস্থিতির উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নয়। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর লক্ষ্যও থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। ইসরাইলের এসব পরিকল্পনাকে ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট।
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মোহামুদ। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সোমালিল্যান্ডকে দীর্ঘদিন কোনো জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ইসরাইল গত বছর অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দেয়। সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখনো সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
মোহামুদের ভাষ্য, সোমালিল্যান্ডের স্থানীয় জনগণের একটি অংশও ইসরাইলের উপস্থিতির বিরোধিতা করছে। ইসরাইলের পদক্ষেপের কারণে সোমালিয়ার সামনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোমালিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁর দাবি, আল-শাবাব বর্তমানে সোমালিয়ার বড় শহরগুলোতে উপস্থিত নেই এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অবস্থাতেও নেই।
প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন মোহামুদ। সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহার করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইথিওপিয়াকে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সোমালিয়ার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।
তবে ২০২৪ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্রপথ ব্যবহারের বিষয়ে ইথিওপিয়ার একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সোমালিয়া তখন ওই চুক্তিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিদেরও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন মোহামুদ। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুথিদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।