ইসলামী দল নেজামে ইসলাম পার্টির আমিরের মৃত্যু

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম, ১১ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী দল নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি (৭৯) বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার দুপুর ২টায় লোহাগাড়ার পদুয়া ঠাকুরদিঘি হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা সাতকানিয়া উপজেলার কৃতী সন্তান আ ফ ম খালিদ হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য জনাব মো. নাজমুল মোস্তফা আমিন, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য জনাব ছলিম উদ্দিন চৌধুরী (খোকন চৌধুরী), চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু তাহের, পদুয়া ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও আগামী পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ইউসুফ, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু সেলিম, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল হাসেম, সাংবাদিক পরিবারের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় মহাসচিব সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সাংবাদিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরীসহ বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও সাত কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামের নয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আলহাজ হাকিমবক্স চৌধুরী পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবিয়া মুসলিম ছাত্র পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদুয়া আল জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসাসহ বহু দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক, ১৯৮৪ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৭ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মজলিসে শুরার সভায় তিনি দলটির কেন্দ্রীয় আমির নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির, শাহ ওয়ালীউল্লাহ একাডেমি চট্টগ্রামের পরিচালক এবং জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা, পদুয়ার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার মৃত্যুতে ইসলামী অঙ্গনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রবীণ এই আলেম ও রাজনীতিবিদের ইন্তেকালের খবরে চট্টগ্রামের আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। জুমার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ তাকে শেষবারের মতো দেখতে পদুয়ার বাড়িতে ভিড় করেন।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টায় লোহাগাড়ার পদুয়া ঠাকুরদিঘি হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *