রাজবাড়ী প্রতিনিধি ::
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজবাড়ীর পদ্মা, গড়াই ও হড়াইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২০ আগস্ট থেকে জেলার নদ-নদীগুলোতে পানির উচ্চতা বাড়ছে।
রাজবাড়ী পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৭ দশমিক ৪৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ২০ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি ৮ দশমিক ৩৫ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫০ মিটার। ফলে এ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ১৫ মিটার নিচে রয়েছে।
পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫২ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪ মিটার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে, কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি ৬ দশমিক ৯৯ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৭৫ মিটার। এ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, সেনগ্রাম পয়েন্টে শূন্য দশমিক ১ সেন্টিমিটার এবং কামারখালী পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি শূন্য দশমিক ২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তবে ২০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৭২ সেন্টিমিটার, মহেন্দ্রপুরে ৭২ সেন্টিমিটার, সেনগ্রামে ৮৭ সেন্টিমিটার এবং কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি ৭৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে উজানের ঢলে পদ্মা, গড়াই ও হড়াই নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তাই এই মুহূর্তে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে কোথাও ভাঙন দেখা দিলে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নদীপাড়ের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এখনো জেলার কোথাও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে