ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একই ছাদের নিচে একই কক্ষে থাকতেন তিন বন্ধু। একসঙ্গে পড়াশোনা, নিয়মিত ‘গ্রুপ স্টাডি’ এবং একে অপরকে সহযোগিতা করেই এগিয়ে চলেছেন তাঁরা। সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষের সেই তিন সহপাঠী এখন সহকারী জজ হওয়ার পথে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন, মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলমের গল্পটি যেন একসঙ্গে স্বপ্ন দেখার সফল পরিণতি। তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষে থেকে জুডিশিয়ারিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে আরিফ হোসাইন ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমে জজ হওয়ার সুযোগ পান। তাঁর সাফল্য বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। এরপরও গ্রুপ স্টাডি ও প্রস্তুতি চালিয়ে যান আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম।
টানা দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি শাকির আলম। শেষ পর্যন্ত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। একই পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁর রুমমেট মো. আনোয়ার হোসেনও। এর মধ্য দিয়ে একই কক্ষের তিন বন্ধুই জুডিশিয়ারিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
১৬তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সবার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা।’
১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, ‘প্রথমেই মহান আল্লাহ–তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজের উৎসাহের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় ভালো লাগার বিষয় হলো, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁরা তিনজনই জজ হওয়ার পথে এগিয়েছেন।
তিন বন্ধু জানান, ক্যাম্পাসজীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটিই ছিল তাঁদের পড়াশোনা ও পরস্পরকে সহযোগিতার প্রধান কেন্দ্র। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা ছিল তাঁদের নিয়মিত রুটিনের অংশ। একজনের সাফল্যের পর বাকি দুজনের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ও প্রস্তুতির আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হালিমা খাতুন বলেন, তাঁদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো ফল করে। এবার আরও ভালো করেছে। যাঁরা জুডিশিয়ারিকে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাঁদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে ভিত্তি শক্ত করতে বিভাগ কাজ করবে।
তিনি বলেন, জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। একই কক্ষের তিন রুমমেট বন্ধুর জজ হওয়ার সাফল্য বিভাগের জন্য গৌরবের। তাঁরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে চারজন এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে একজন সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।