কক্সবাজার জেলা কারাগারকে আধুনিক ও মানবিক পরিবেশে গড়ে তুলতে জেল সুপার ওবায়দুর রহমানের ব্যাপক উদ্যোগ

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

কক্সবাজার জেলা কারাগারকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুসজ্জিত, আধুনিক ও মানবিক পরিবেশে গড়ে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জেল সুপার ওবায়দুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে কারাগারের অভ্যন্তরে সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ উন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বন্দিদের জন্য ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ভেঙে কারাগারকে শুধুমাত্র বন্দিশালা হিসেবে নয়, বরং একটি সংশোধনমূলক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বর্তমান জেল সুপার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

এরই অংশ হিসেবে কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অফিস কক্ষ ও অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কারাগারের পরিবেশ মনোরম করতে বৃক্ষরোপণ, ফুলের বাগান তৈরি এবং বিভিন্ন দেয়ালে সচেতনতামূলক ও নান্দনিক দেয়ালচিত্র অঙ্কনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বন্দিদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আবাসিক পরিবেশ আরও বাসযোগ্য করে তোলার কাজও চলছে বলে জানা গেছে। কারাগারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

কারা সংশ্লিষ্টদের মতে, জেল সুপার ওবায়দুর রহমানের উদ্যোগে বন্দিদের মানসিক পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্দিদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে বন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেল সুপার ওবায়দুর রহমান বলেন, “কারাগারকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিবেশে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সুস্থ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, একজন বন্দি সাজা শেষে সমাজে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার মানসিকতা অর্জন করুক।”

তিনি আরও বলেন, “কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। এজন্য আমরা ধাপে ধাপে আধুনিক ও যুগোপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি।”

সচেতন মহল মনে করছেন, কক্সবাজার জেলা কারাগারে চলমান এই উদ্যোগ দেশের কারা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে বন্দিদের পুনর্বাসন ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *