আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবোলার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৭৫৯ জন।
ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির এই প্রাদুর্ভাব ইতুরি, উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুর ৩৭টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, শোপো প্রদেশের কিসাঙ্গানিতেও দুই ব্যক্তির শরীরে বুন্দিবুগিও প্রজাতির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতুরির নিয়া-নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চলের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭৫০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে আরও ২৮৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আফ্রিকা অঞ্চলের কার্যালয় জানিয়েছে, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই রোগীদের মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়া এবং ইতুরি ও উত্তর কিভুর নতুন নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
গত ১৫ মে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে ইতুরিতেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এবং মৃত্যুর ৮৪ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে এই এক প্রদেশেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, রোগীরা চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই মারা যাওয়ার উচ্চ হার প্রমাণ করে যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গতির তুলনায় স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা এখনও দুর্বল।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত করা ৪৩০টি মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে প্রায় ৪০০টিই ঘটেছে রোগীদের কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করার আগেই। এতে রোগী শনাক্ত, স্থানান্তর, আইসোলেশন এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সূত্র: এএফপি