লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সকালের নাশতা থেকে বিকেলের হালকা খাবার—প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অনেকেরই পছন্দের ফল কলা। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফল কিনতে গিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কলা গাছপাকা নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো। তবে শুধু খোসার রং বা দাগ দেখে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
বাজারজাত করার সুবিধার জন্য অনেক সময় কলা পুরোপুরি পাকার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্দিষ্ট পরিবেশে রেখে তা পাকানো হয়। কলা পাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ইথাইলিন নামের উদ্ভিদ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুমোদিত পদ্ধতিতে ইথাইলিন ব্যবহার করেও ফল পাকানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই ইথাইলিনের ব্যবহার মানেই কলা ক্ষতিকর—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত পাকানোর জন্য নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে ক্যালসিয়াম কার্বাইড অন্যতম। অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই রাসায়নিক ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কলা কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন
কলা কেনার সময় অস্বাভাবিক তীব্র বা রাসায়নিক গন্ধ আছে কি না, তা খেয়াল করতে পারেন। খুব উজ্জ্বল হলুদ রং, পাকা দেখালেও অস্বাভাবিক শক্ত থাকা কিংবা অস্বাভাবিক দাগ চোখে পড়লে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে এসব লক্ষণ একা কৃত্রিমভাবে পাকানোর প্রমাণ নয়। পরিবহণে চাপ লাগা, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সংরক্ষণের কারণেও খোসার রং ও দাগের পরিবর্তন হতে পারে।
ফল কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বিক্রেতাকে বেছে নেওয়া এবং বাড়িতে এনে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও জরুরি। কলা অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে, পচা গন্ধ এলে বা ছত্রাক দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া শুধু খোসার রং, ডাঁটা বা দাগ দেখে কলা কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং পচন বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ থাকলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।