কাঁঠালিয়ায় প্রবাসীর জমিতে ঘর নির্মাণে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম

স্টাফ রিপোর্টার:

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিলন সরদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালিয়া উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। পৈতৃক বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি আমুয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। আর্থিক সংকটের কারণে কেনা জমির একটি অংশে আগে ঘর নির্মাণ করতে পারেননি। সম্প্রতি ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় মিলন সরদার নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি একটি পক্ষের হয়ে জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করছেন। এ-সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন সালমা বেগম।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন নিজাম মিরবহর সালিশের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সালিশের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সালমা বেগমের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মিলন সরদারের নেতৃত্বে যুগল দাস (পিতা বিজয় দাস), শ্যামল দাস (পিতা মৃত মহেন্দ্র দাস), মিলন দাস (পিতা বিজয় দাস) ও সাগর দাস (পিতা সুভাষ দাস) বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ করতে আসেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী ইব্রাহিম ও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় সালমা বেগম ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর ১৪৫/২৬ (কাঁঠালিয়া)। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কাঁঠালিয়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মিলন সরদার। তাঁর দাবি, জমিটি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং সালমা বেগম অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি বাধা দিতে গেলে সালমা বেগম ও তাঁর লোকজন তাঁকে গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন।

অপরদিকে সালমা বেগমের দাবি, জমিটি তাঁর স্বামীর ক্রয় করা সম্পত্তি এবং তাঁরা নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু নাছের রায়হান জানান, উভয় পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকেই নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এটি জমি-সংক্রান্ত দেওয়ানি বিরোধ, তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে পুনরায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সালমা বেগম। তিনি বলেন, “মিলন সরদার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি আমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমাদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিলন সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *