হাজী সাইফুল ইসলাম:
আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমি সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক ঢিলে দুই পাখি। ১. ঘুষ বাণিজ্যে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সেবা নিতে আসা মানুষ দুর্নীতি, ঘুষ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়ে সাধারণ মানুষের মনে সৃষ্টি হচ্ছে বর্তমান দলীয় সরকারবিরোধী বিদ্বেষ।
২. সরকারি অফিসে বসে সরকারি বেতনে সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ ও ক্ষোভ সৃষ্টির মাধ্যমে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের এই অভিনব কৌশলে কাজ করে যাচ্ছেন কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এসব কর্মচারীর আয়বহির্ভূত অবৈধ অর্থ ব্যবহার হচ্ছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তির মাধ্যমে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে।
সরকারি বিভিন্ন অফিসে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষের হয়রানি। এতে করে বর্তমান দলীয় সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অপরদিকে, জনমনে সরকারবিরোধী মনোভাবের জন্ম দিচ্ছেন তাঁরা। এর ফলে অসাধু ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তারা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:
ভূমি সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলোতে সেবার নামে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। অহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয়। এতে করে একদিকে দুই পাখি শিকার করছেন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১. বিভিন্ন কৌশলে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২. হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। যে টাকা বর্তমান সরকারবিরোধী নৈরাজ্য সৃষ্টিতে জোগান দিচ্ছে বলে মনে করছি আমি সাংবাদিক হাজী সাইফুল ইসলাম।
এই অসাধু কর্মকর্তাদের পেছনে সহায়তা দিচ্ছেন নামধারী সরকারদলীয় কতিপয় হাইব্রিড ঘাতক-দালাল ব্যক্তি।
ভূমি সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলো থেকে রাজস্ব আয় নিশ্চিত ও জনদুর্ভোগ কমাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো কেটে নিয়ে সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের প্রকৃত সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে এই অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ভিন্ন কৌশলটি রোধ হবে, কমবে জনদুর্ভোগ, দূর হবে সাধারণ মানুষের মনে সরকারবিরোধী মনোভাব, বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল ভোগ করবে আমজনতা, সুনামে ভাসবে শহীদ জিয়া তথা সারা পৃথিবীর মানুষ। জনমনে তৈরি হবে স্বস্তি, দেশ গড়তে এগিয়ে আসবে সকল গোষ্ঠী।
গাজীপুর জেলার সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসগুলোর সামান্য বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো:
গাজীপুর এলএ (অধিগ্রহণ) শাখার সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর ও মুসলেমের কাছে জিম্মি অধিগ্রহণকৃত জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের বিল নিতে আসা ভূমিহারা কৃষক-জনতা। মোট বিলের ৫ থেকে ৩০ শতাংশ নগদ টাকা ঘুষ দিতে পারলে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অধিগ্রহণের বিল পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা (দালাল চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে)। নগদ টাকা দিতে না পারলে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা তো দূরের কথা, ২ থেকে ৯ বছরেও মিলছে না অধিগ্রহণকৃত জমির বিল। বিস্তারিত অডিও, ভিডিও এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগপত্রসহ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
গাজীপুর সদর হাসপাতাল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের ঘুষ, নানা অনিয়ম, সনদ বাণিজ্য, টিকিট বাণিজ্য ও রোগীদের খাবারের বাণিজ্য এবং কেবিনগুলো ভাড়ার নামে রমরমা ব্যবসা চলছে। এসব নানা অনিয়ম ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে বর্তমান সরকারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল সাহেবকে ঘিরে নানা জল্পনা ও সমালোচনার মুখে, গাজীপুরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের অন্যতম ধূসর বলে আখ্যা দিচ্ছেন আমজনতা। আমজনতার দাবি, তিনি কয়েক বছর যাবৎ বদলির আদেশ থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলির আদেশ বাতিল করে এই হাসপাতালের পরিচালকের চেয়ারে গেড়ে বসেছেন। প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, দালাল ও গুন্ডাবাহিনী দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। যার ফলে হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই প্রতিবেদককে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দেন। তাঁদের অভিযোগ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের পরিচালক আমিনুল স্যারের দ্বারা শুধু হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই হয়রানি বা জুলুমের শিকার হচ্ছেন না, এখানেই শেষ নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই চাকরি হারানোর ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এই পরিচালক আমিনুল সাহেবের নানা অপকর্ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশের কার্যক্রম চলমান।
অসাধুদের বিপরীতে ভালো, ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের কদরও রয়েছে আমজনতার হৃদয়ে। যেমন: গত কয়েক দিন পূর্বে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জনপ্রিয় এসিল্যান্ড নাহিদুল হকের বদলির খবরে অফিস প্রাঙ্গণে হতাশাগ্রস্ত স্থানীয় আমজনতা। সৎ, যোগ্য, নীতিবান ও মানবিক নাহিদুল হকের ১২ মাসের কর্মকাণ্ডে দালালমুক্ত অফিস, দালালচক্রবিহীন সেবা নিশ্চিত হয়েছিল। এই নাহিদুল হকের বিদায়ে দুশ্চিন্তায় কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষ। সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তার বিদায়ে অভিভাবকহীন বোধ করছেন সাধারণ মানুষ। দুর্নীতিমুক্ত সেবা ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, জনতার আক্ষেপ—দালাল সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা।
ভূমিসেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগ, ৬-৭ বছর ধরে কাপাসিয়ার এই এসিল্যান্ড অফিসে কর্মরত নাজির মাহবুব দালালনির্ভর। তাঁর দালাল চক্রের কারণে আগেও সেবা নিতে ভোগান্তি হতো। নাহিদুল হক স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সিন্ডিকেট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। এখন তাঁর বদলির পর আবার সক্রিয় হতে পারে। দালালনির্ভর নাজির মাহবুবের অতীতের ঘুষ ও নানা অনিয়মের বিষয়ে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “নাহিদুল হক স্যার থাকতে আমরা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে কাজ সারতে পেরেছি। এখন আবার আগের মতো টাকা ছাড়া ফাইল নড়বে না—এমন ভয় কাজ করছে।”
“নতুন কর্মকর্তা এলে একই স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানাই। নইলে আমরা আবার হয়রানির শিকার হবো।”
এলাকাবাসী মোস্তফা ফকির, রফিকুল ইসলাম, জামির হোসেন, আইয়ুবুর রহমান প্রমুখ গণমাধ্যমকে বলেন, এই অফিসের নাজির মাহবুব ৭-৮ বছর যাবৎ গেড়ে বসেছেন। তাঁর বদলির জোর দাবি জানাচ্ছি। জনস্বার্থে ও সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মাহবুবকে অন্যত্র বদলির মাধ্যমে আমাদের দালালমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিতে সহযোগিতা করুন। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের দাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, নাহিদুল হককে পদোন্নতি দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এই স্থানে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিগগিরই যোগদান করবেন।
নাহিদুল হকের পরিচয়:
কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মো. নাহিদুল হক যোগদান করেন। তিনি ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি এর আগে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। মো. নাহিদুল হক ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। যোগদানের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীমসহ সুশীল সমাজ ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক জানান, সরকারি যথাযথ নিয়মনীতি ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও সহজীকরণ সেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন তিনি।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “নাহিদুল হক দায়িত্ব পালনকালে সততা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন কর্মকর্তাও একই ধারা অব্যাহত রাখবেন—এটি আমাদের প্রত্যাশা।”
বিশেষ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদুল হকের বদলির খবরে স্থানীয়রা ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। অনেকে লিখেছেন—“এমন কর্মকর্তা আবার কবে পাবো!”