নুরুজ্জামান সাউদ:
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকায় অবস্থিত ‘জমিলা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ার সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ এক নারী চিকিৎসকের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডাঃ আফরোজা আক্তার (ডলি) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্ত মো. আশিকুর রহমান ইমন, মো. রাজু আহম্মেদ শাহীন, মোসা. কামরুন্নাহার মুন্নি ও মোসা. লামিয়া শারমিন তানহাসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাসপাতালটিতে অতর্কিতে হামলা চালায়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী চিকিৎসক জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে অভিযুক্তরা রোগী হিসেবে সিরিয়াল নিয়েছিলেন। ওইদিন তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় থাকায় চিকিৎসা দিতে পারেননি, যার জেরে তারা হাসপাতালের কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে ৪নং বিবাদী চিকিৎসা নিতে এসে স্টাফদের সাথে পুনরায় বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং ফোন করে অন্যদের ডেকে আনেন।
হামলা ও লুটপাটের বিবরণ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংঘবদ্ধ চক্রটি হাসপাতালে প্রবেশ করে লোহার রড ও লাঠিশোটা দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, যাতে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নারীদের ওপর চড়াও হয়ে দুই নার্সকে মারধর করার পর অভিযুক্তরা চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
ডাঃ আফরোজা আক্তার জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১নং বিবাদী ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২নং বিবাদী ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং ৩নং বিবাদী তার গলায় থাকা ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসককে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি গাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গাছা থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।