ঘাটাইলে লাইটিং পদ্ধতিতে লাভবান হচ্ছেন ড্রাগন চাষিরা

মোঃ হাসান আলী:

ঘাটাইল উপজেলায় ভালো ফলন পেতে রাতের বেলায় ড্রাগন বাগানের খুঁটিতে খুঁটিতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন ফল। চাষাবাদের এই আধুনিক প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘লাইট পদ্ধতি’। ড্রাগন চাষের নতুন এই পদ্ধতিতে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সরাবাড়ি গ্রামে চাষি সোহান ও সিজানের ড্রাগন ফলের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের ভেতর শত শত বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলছে। বাতির আলোয় আলোকিত হয়ে রয়েছে পুরো ড্রাগন ক্ষেত। সেখানে নিজ হাতে ক্ষেত পরিচর্যা করছেন সোহান। এ সময় তাঁর ক্ষেতে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাগানে কাজ করছেন। রাতে কাজ করলে তিনি দ্বিগুণ পারিশ্রমিক পান।

সোহান জানিয়েছেন, চলতি বছর তিনি তাঁর পাঁচ একর জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ড্রাগন মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। অতিরিক্ত ঠান্ডায় ড্রাগনে ফুল বা ফল হয় না। কিন্তু লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন গাছে রাতেও প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা পাওয়ার কারণে ভরা শীতের মৌসুমেও ফল পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ে উৎপাদিত এই ড্রাগন ফল বিক্রি করে ভরা মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সরাবাড়ি গ্রামের এই চাষি আরও বলেন, মূলত ড্রাগনের ফুল যাতে নষ্ট না হয় এবং একই গাছে যেন অধিক সময় ফল পাওয়া যায়, সেজন্যই এই লাইটিং পদ্ধতির ব্যবহার করা হচ্ছে। শীত মৌসুমে বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, “চায়না লাইটিং বা কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করার মূল কারণ হলো শীতে দিন ছোট আর রাত বড় হয়। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা অনেকাংশে কম থাকে এবং রাতেও বেশ ঠান্ডা পড়ে। ফলে ড্রাগন গাছ তার স্বাভাবিক ফুল ও ফল দিতে পারে না। তাই ড্রাগন ক্ষেতে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। ঘাটাইলের মাটি উর্বর হওয়ায় অল্প খরচে যেকোনো ফল সহজেই চাষ করা যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *