চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকায় পলিথিন কারখানা, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ

মুহাম্মদ জুবাইর:

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন উত্তর লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পলিথিন কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন এবং সরকারি রাজস্ব প্রদানের বিষয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোড নং-১, লাইন নং-০৮, ব্লক-ডি, উত্তর লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির একটি আবাসিক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, শিল্প এলাকা ব্যতীত আবাসিক এলাকায় কীভাবে বছরের পর বছর একটি পলিথিন কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি রয়েছে কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটিতে সরাসরি একটি গ্যাসলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ওই এলাকায় সাধারণ আবাসিক গ্যাস সংযোগের সুবিধা নেই। ফলে কারখানাটিতে ব্যবহৃত গ্যাসের উৎস এবং সংযোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগে ওই এলাকায় একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের সময় মাটির নিচ থেকে অনবরত গ্যাস বের হতে থাকে। সে সময় জায়গার মালিক ছাইফুল বিষয়টি বুঝতে না পেরে আশপাশের শুকনো পাতা পোড়াতে গেলে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই জমির মালিকের মৃত্যুর পর তার দুই স্ত্রীর কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নিয়ে সেখানে পলিথিন কারখানা গড়ে তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কারখানাটি গত দুই থেকে তিন বছর ধরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গ্যাসলাইন মেরামত করে নিয়মিত গ্যাস ব্যবহার করছে। এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বা গ্যাস ব্যবহারের বৈধতা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কারখানাটির মালিকের সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদকের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে কারখানা পরিচালনার অনুমোদন, গ্যাস ব্যবহারের বৈধতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য সরকারি অনুমোদনের বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

বিষয়টি প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে আকবর শাহ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিষয়টি চট্টগ্রামের গ্যাস অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। পরিদর্শন শেষে তারা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রতিবেদককে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দেশে যখন বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে এবং অনেক আবাসিক গ্রাহক প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় গ্যাস পাচ্ছেন না, তখন একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কারখানায় দিন-রাত গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ কীভাবে রয়েছে?

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, কারখানাটির গ্যাস সংযোগের বৈধতা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন এবং সরকারের রাজস্ব প্রদানের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় কারখানা পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না, থাকলে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তা দেওয়া হয়েছে—সেটিও জনসম্মুখে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও কারখানাটির বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *