কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকার আলোহা কোচিং সেন্টারের এক নারী কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইসলাম (৫০) নামে ওই প্রতিষ্ঠানের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চকবাজার থানায় এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে মেহেদীবাগ এলাকার আলোহা কোচিং সেন্টারে আয়া হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাকর্মী ইসলাম বিভিন্ন অজুহাতে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেন এবং তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে কোচিং সেন্টারের স্টাফদের জন্য নাস্তা নিয়ে ইসলাম কিচেন রুমে প্রবেশ করেন। পরে তিনি স্টাফদের নাস্তা পরিবেশন শেষে পুনরায় কিচেন রুমে গেলে ইসলাম তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে না জানিয়ে ওই নারী বাসায় চলে যান। পরে তিনি তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চকবাজার থানায় লিখিত এজাহার গ্রহণের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা রুজু করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা গ্রহণের পর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ মেহেদীবাগ এলাকার আলোহা কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোচিং সেন্টারটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তারা প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের কয়েকজনের অভিযোগ, কোচিং সেন্টারটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হওয়ায় সেখানে অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।