মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলওয়ে স্টেশনে অবৈধ মালামাল পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শরিফুল ইসলাম সুমন (৪০) এবং জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয় (৩৩)।
ঘটনার বিবরণ:
গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় দুই সাংবাদিক শশীদল রেলওয়ে স্টেশনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সে সময় চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশনে বিরতি নিলে ট্রেনে ভারতীয় অবৈধ মালামাল তোলা হচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষ করেন তাঁরা। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধারণ করার সময় মো. কবির হোসেন, পারুল আক্তার, মো. রাসেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে দুই সাংবাদিক মোটরসাইকেলে স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা রেলস্টেশনের বাইরে তাঁদের গতিরোধ করে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের ব্যবহৃত Oppo A58 মোবাইল ফোন (নম্বর: ০১৭৩৭-৫১৫৬৫৭) ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি সাংবাদিক আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়ের কাছ থেকে নগদ ২,৯২০ (দুই হাজার নয়শত বিশ) টাকা এবং সম্পাদক শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ৩,৪২০ (তিন হাজার চারশত বিশ) টাকা লুট করে নেয়। হামলায় উভয় সাংবাদিক শারীরিকভাবে আহত হন।
অভিযুক্তরা:
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে— ১. মো. কবির হোসেন (৪৫), ২. মোছেনা বেগম (৪০), ৩. পারুল আক্তার (৪০), ৪. মো. রাসেল (২৭) এবং ৫. মো. কেটু মিয়া (৩২), পিতা: রমিজ উদ্দিন। এদের সকলের বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া থানার শশীদল (পূর্বপাড়া) গ্রামে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার দায়ের:
ঘটনার পর ২০ মে ২০২৬ তারিখে সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সমাজে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।