চবিতে প্রশাসনের সামনেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কীভাবে মিছিল করে

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন করতে পারল—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের প্রশ্ন, এটি কি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা, নাকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পর্যায়ে তাদের প্রতি সহানুভূতি বা দুর্বলতা রয়েছে?

সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে চবি শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল শোডাউন করতে দেখা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার ভিডিও নয়; পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার ও রেলক্রসিং এলাকায় ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ভিডিও ধারণের সময় আশপাশে সাধারণ শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ভিডিওটি বর্তমান সময়ের নয়। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সময় লোকচক্ষুর আড়ালে এই শোডাউন দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেটি ২২ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ‘মুজিব আমার চেতনা, মুজিব আমার বিশ্বাস’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ারকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ আগস্টের সময় ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আমরা চবি শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েছিলাম, আমরা ফিরে আসব। আমরা কথা রেখেছি। চবিকে কোনোদিন জামাত-শিবিরের রাজাকারদের মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা আঁতুড়ঘর হতে দেব না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘আমরা জিরো পয়েন্ট ও ১ নম্বর গেটের সিসিটিভি রেকর্ড পরীক্ষা করে গতকাল বা আজকের কোনো শোডাউনের প্রমাণ পাইনি। এটি অনেক আগের ভিডিও, যা আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সময় সকালবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে কয়েকজন শোডাউন দিয়ে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের নেতৃত্বদানকারী আবরার শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ফুটেজ দেখে শোডাউনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *