চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক পরিবারের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল ইসলাম।

এক প্রতিবাদ বক্তব্যে কামরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে একজন সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেখে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জসিম উদ্দিনের পুলিশজীবনের শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কর্মজীবনের নানা ঘটনা তিনি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, একজন তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতেই জসিম উদ্দিনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং নিজের দায়িত্বের প্রতি দৃঢ়তা লক্ষ্য করা গেছে। সময়ের সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের কর্মজীবনকে শুধু পদোন্নতি, বদলি কিংবা দায়িত্ব পালনের হিসাব দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। কর্মজীবনে নানা ধরনের প্রতিকূলতা, ভুল বোঝাবুঝি, সমালোচনা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিস্থিতিতে একজন কর্মকর্তা কীভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটিই তার প্রকৃত মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, ওসি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও নেতিবাচক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবাদকারী কামরুল ইসলাম বলেন, “আমি ওসি জসিম উদ্দিনকে একজন সৎ, সাহসী ও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে চিনি। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ের নানা ঘটনা আমি কাছ থেকে দেখেছি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালনে দৃঢ় থেকেছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতেও জসিম উদ্দিনকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল বা সরকারি নথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

কামরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, জসিম উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ মনে করেন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন ও ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, একজন কর্মকর্তা যদি নিজের দায়িত্বের প্রতি সৎ ও নিষ্ঠাবান থাকেন, তাহলে নানা ধরনের চাপ বা অপপ্রচারের মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, “জসিম উদ্দিন জানেন তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তাই তিনি সবসময় সাহসের সঙ্গে মানুষের সেবা করে আসছেন। একজন সৎ মানুষ অন্যায় বা অপপ্রচারে ভেঙে পড়েন না; বরং সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।”

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপনের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *