মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনাগুলোর একটি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বোমা ট্র্যাজেডির ২৬ বছর পূর্ণ হলো আজ, ১৬ জুন। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলায় ছাত্রলীগ নেতা সাঈদুল হাসান বাপ্পীসহ ২০ জন নিহত হন এবং তৎকালীন সংসদ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
দুই যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় নিহতদের স্বজন ও আহতদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ।
ঘটনাটি ঘটে ২০০১ সালের ১৬ জুন, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহত ও আহতদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় তদন্ত কার্যক্রম নানা জটিলতায় আটকে থাকে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বারবার বিলম্বিত হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০১৩ সালে সিআইডি ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে এবং বিভিন্ন আইনি ও প্রক্রিয়াগত কারণে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
নিহতদের স্মরণে চাষাঢ়ায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও স্বজনদের দাবি একটাই—তারা জীবিত থাকতেই এই বর্বরোচিত হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চান।
২৬ বছর পরও বিচার শেষ না হওয়ায় অনেকের কণ্ঠে একই আক্ষেপ—বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা শুধু স্বজনদের বেদনাই বাড়িয়ে তুলছে না, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।