কামরুল ইসলাম:
জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এলাকার শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর (লালদীঘী)-এ এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনরা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে শহীদ পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। শুরুতেই তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সর্বোচ্চ পুলিশি সহায়তা প্রদান এবং তাঁদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি শহীদ পরিবারের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। কোনো ধরনের সমস্যা বা নিরাপত্তাজনিত বিষয় দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার জন্যও তাঁদের প্রতি অনুরোধ জানান পুলিশ কমিশনার।
মতবিনিময় সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ ফয়সল আহমেদ শান্ত, নিজাম উদ্দিন, মো. ফারুক, মো. আলম, মো. ইউসুফ, শহীদুল ইসলাম, ওমর বিন আবছার, মাহবুবুল হাসান ও ইসমামুল হকের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা সভায় তুলে ধরেন। তাঁরা শহীদদের পরিবারের প্রতি প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শহীদদের পরিবারের নিরাপত্তা ও মামলাসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।
জবাবে পুলিশ কমিশনার শহীদ পরিবারের সদস্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা একা নন; তাঁদের পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে।
সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বাবা-মা, স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনদের আপ্যায়ন করা হয়। পরে তাঁদের হাতে শুভেচ্ছা উপহারসামগ্রী তুলে দেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ।
মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কথা সরাসরি শোনা এবং তাঁদের পাশে থাকার প্রত্যয় তাঁদের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।