টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার:

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মোট ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই ইয়াবার চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে সন্দেহভাজন কয়েকজন পাচারকারী। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ জানায়।

চ্যালেঞ্জের মুখে পাচারকারীদের সহযোগীরা দূর থেকে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এতে এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। তবে অন্ধকারের সুযোগে আরও কয়েকজন পাচারকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জব্দকৃত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান, নদীপথ এবং পার্বত্য এলাকার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা প্রায়ই মাদক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও মাঝে মধ্যে বড় চালান ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটছে।

তবে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অনেকাংশেই পাচারকারীদের তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে মাদক পাচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *