চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গায় শ্রমিকদের ওপর হামলা, সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচলের প্রতিবাদে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার সব রুটে দূরপাল্লার বাসসহ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার রাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলে ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে সোমবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক ও বাসচালকেরা জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেন। এতে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, পাখিভ্যানসহ ছোট যানবাহনে যাতায়াত করেন।
ধর্মঘটের সূত্রপাত হয় দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখিভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাস শ্রমিকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বিরোধের একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাস চলাচলে বাধা এবং কয়েকটি বাস আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।
শ্রমিকদের দাবি, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে তারা পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের জরুরি সভায় শ্রমিকদের ওপর হামলা, মহাসড়কে বাস আটকে রাখা এবং ইজিবাইক চলাচলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে দূরপাল্লার সব বাসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ায় ওই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনা বন্ধ করা এবং মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় একটি ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাধা দেন বলে জানা যায়। পরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে লাঞ্ছিত, বাসে হামলা এবং তাদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগও করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। পরে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সে সময় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বেসরকারি চাকরিজীবী সজিবুর রহমান বলেন, বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আগের মতো সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস চালু থাকায় স্বস্তি ফিরেছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।