তীব্র গরমে হাঁসফাঁস নিউইয়র্ক, স্বস্তি নেই বিশ্বকাপেও

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ::

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরই সাধারণত শীতপ্রধান। জুন-জুলাইয়ে গ্রীষ্মকাল থাকলেও এ সময় মাঝেমধ্যে তীব্র তাপদাহ দেখা দেয়। গত দুই দিন ধরে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নিউইয়র্কেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। টানা দাবদাহে হাঁসফাঁস করছেন নগরবাসী, যার প্রভাব পড়েছে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপেও।

সাধারণত নিউইয়র্কের আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও সেখানে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া ছিল। তবে হঠাৎ করেই গত দুই দিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন শহরটির বাসিন্দারা। গ্রীষ্মকালে নিউইয়র্কে সূর্যাস্ত হয় রাত ৯টার দিকে। তীব্র গরমের কারণে বিশেষ করে দুপুরের সময় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না।

নিউইয়র্কে বছরের বেশির ভাগ সময়ই ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করে। এ কারণে অনেক বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) কিংবা বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে চলমান তাপদাহে অনেক বাসিন্দাকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিকেলের দিকে কিছুটা স্বস্তির আশায় অনেকে কাছাকাছি পার্কে সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

এই গরমের মধ্যেই কয়েক দিন আগে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচ। আগামী পরশু একই ভেন্যুতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের সময়ও নিউজার্সির স্টেডিয়ামে উচ্চ তাপমাত্রা থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়তে হবে আর্লিং হালান্ড, নেইমারদের মতো তারকাদের। তবে ব্রাজিলের জন্য কিছুটা সুবিধা হলো, দলটি বর্তমানে নিউইয়র্কেই ক্যাম্প ও অনুশীলন করছে।

বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ভেন্যুতেই তীব্র গরমের মধ্যে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবুও সমর্থকদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। তারা গরম উপেক্ষা করে স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনে ভিড় করছেন। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছাউনি থাকলেও খোলা আকাশের নিচে থাকা ফ্যান জোনে সূর্যের তাপ সরাসরি সহ্য করতে হচ্ছে দর্শকদের। গরমের তীব্রতা কমাতে অনেকে ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করছেন এবং ছোট হ্যান্ড ফ্যান ব্যবহার করছেন।

এজেড/আইএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *