অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে গাড়ির ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিংয়ের মেয়ে তৃষা সিং। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সোনারি থানার আওতাধীন মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অন্য তিনজন হলেন সারথক আগরওয়াল, নমান গুপ্ত ও বংশিকা খান্ডেলওয়াল। ভোররাত ৩টার দিকে চারজন একটি সাদা সুইফট গাড়িতে করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা চারজনই আটকা পড়েন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা গ্যাস কাটার ব্যবহার করে গাড়ির অংশ কেটে তাদের বের করেন। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য এমজিএম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে ট্রাকটি বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাত থেকেই ট্রাকটি সেখানে অবস্থান করছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটির পেছনে সতর্কতার জন্য একটি গাছের ডাল রাখা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে। তবে দৃশ্যমান প্রতিফলক বা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জামশেদপুরের সোনারি থানার কর্মকর্তা সঞ্জয় সুমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো তদন্ত করছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিংয়ের মেয়েসহ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ারও নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গাড়িটিকে ট্রাকের পেছনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার সঠিক কারণ ও দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।