মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জমি দলিল দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে আসামিপক্ষের লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ভালুকাপাড়া গ্রামের মো. রশিদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে মো. আল আমিন গংদের জমি দলিল দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩০ মে ২০২৬ সকালে মো. রশিদকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় রশিদ গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী আহতদের হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে মো. রশিদ, মো. ছামাদ, ফজর আলী ও সুজন মিয়াসহ কয়েকজন রয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত মো. রশিদের ছেলে মো. সুজন মিয়া বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. আল আমিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় ধোবাউড়া থানায় মামলা নং-২০ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের লোকজন মামলার বাদী সুজন মিয়াকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলার বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসী ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারসহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মামলার বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাও। তাদের মধ্যে ইউপি সদস্য মোছা. ফরিদা বেগম, আবু বকর সিদ্দিক, মো. ইদ্রিস আলী, মো. বুরুজ আলী, নায়েব আলী, আব্দুল বারেক, মো. কুদ্দুস মিয়া, মো. শাহজাহান মিয়া, আব্দুল জব্বার, ইসরাফিল আকন্দ, আব্দুর রাজ্জাক, মো. সাইদুল ইসলাম, মনতোষ দেবাশীষ, মোছা. ফাতেমা খাতুন, মজিনা খাতুন, শিল্প আক্তার ও জাহেরা আক্তারসহ স্থানীয় আরও অনেকে রয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যেন নতুন করে কোনো সংঘাত বা সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানান তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।