বিশেষ প্রতিবেদক:
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় এ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ কম বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবছে কমিশন। তবে এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।
এর আগে ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি দিয়েছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপের ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর আয়োজনের কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তবে এসব তারিখ চূড়ান্ত ছিল না।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে মতবিনিময় করে ইসি। সেখানে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো সামনে আসে।
নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিশন বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করে। ১২ নভেম্বরের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে বন্যার কারণে পিছিয়ে যাওয়া কিছু পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যসূচি শেষ করার বিষয়ও রয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
ইসি কমিশনার আরও বলেন, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সবদিক সমন্বয় করে ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের বিষয়ে কমিশন চিন্তাভাবনা করছে।
ইসি সরকারের চাপে নির্বাচন পেছাচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার তা নাকচ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। সংবিধান, আইন এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
ইউপি নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি এর আগেও জানিয়েছে ইসি। দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার আগে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।