নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী বছরের মধ্যে দূষণ কিছুটা হলেও স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

সোমবার, ২২ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের দিকনির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৮ দিনব্যাপী “যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি” শীর্ষক পরিবেশবিষয়ক বিতর্ক উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৮ হাজারের মতো ইটভাটা রয়েছে, এর মধ্যে ৫ হাজারই অবৈধ। উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের জন্য এখনো ইটের বিকল্প আমরা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারিনি। বিগত সরকারের সময় লক্ষ্য থাকলেও তা পূরণ হয়নি। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে এ থেকে উত্তরণের পথ বের করব। কারণ, ইটভাটা দূষণের একটি বড় উৎস। এছাড়া ইটিপি ব্যবহার না করা এবং গাড়ির ধোঁয়াও পরিবেশ দূষণ করছে। উৎসগুলো ঠিক করে আমরা এগুব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তার মূল কারণ আমাদের স্বার্থপরতা। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ একসময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে পরিচিত ছিল। আমাদের বসবাসের পরিবেশ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের পরিবারকে দূষণ সম্পর্কে সচেতন করে, তাহলে পরিবেশ সংরক্ষণ অনেক সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে একটি সেমিনারে তিনি দেখেছেন, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বিতর্কে জাপান ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ এসেছে। নিয়ম-শৃঙ্খলার ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমেই তারা উন্নত অবস্থানে পৌঁছেছে। আমরাও সেই চর্চা শুরু করেছি। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

“যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্ক উৎসবের ফাইনালে প্রাথমিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় কুতুব আইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় ১০০ নম্বর বাতানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাধ্যমিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রানারআপ হয় হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান অতিথি বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এমপি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শিল্পনগরী। এখানে পরিবেশ রক্ষা করে উন্নয়ন করতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ-সচেতন করে গড়ে তুলতে এ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, এই বিতর্ক উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজনে সহযোগিতা করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি। শিক্ষার্থীরা আজ যে বার্তা দিয়েছে, তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার বার্তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে দিতেই এই ৮ দিনের আয়োজন। তারা দূষণ নিয়ে ভাবছে, সমাধানও খুঁজছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *