হাজীগঞ্জে দীর্ঘদিন কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিসের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার:

হাজীগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী (সিভিল) প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া। ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি এই পৌরসভায় যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত একই দপ্তরে কর্মরত থাকায় তাঁর পদায়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়টি সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, একই জায়গায় দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অবকাঠামো নির্মাণে প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না—তা নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি রয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে থাকা মানেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। বরং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে অনেক সময় প্রকৌশলীদের নির্দিষ্ট এলাকায় রাখা হয়, যাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

জানা যায়, ইদ্রিস মিয়া ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাজীগঞ্জ পৌরসভায় যোগদানের আগে রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় ২০০০ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০০৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন পৌরসভায় দায়িত্ব পালনের পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হাজীগঞ্জ পৌরসভাতেই অবস্থান করছেন।

প্রচলিত প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশেষ করে প্রকৌশল, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় বলে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলে স্বার্থের সংঘাত, প্রভাব বিস্তার এবং অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন মন্তব্যও পাওয়া যায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে।

স্থানীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর সঠিক তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণিত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে পৌরসভার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, উন্নয়ন কার্যক্রমে জটিলতা এড়াতে এবং চলমান প্রকল্পগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে রাখা হয়ে থাকে। তাদের মতে, সব অভিযোগই যাচাই না করে মন্তব্য করা উচিত নয়।

এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, সরকারি বদলি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভায় সহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়ার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক নীতিমালা, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনমতের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা যুক্তির মাঝখানে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *