নিরাপত্তা শঙ্কায় বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর, শনিবার পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ধারাবাহিক এসব হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তাঁর দাবি, মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।

একাধিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ সোমবার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত রিয়াদে যাওয়া-আসার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইটও স্থগিত করেছে সংস্থাটি।

বাহরাইনের বিমান সংস্থা গালফ এয়ার আগামী শনিবার পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনস ২৩ অক্টোবর আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কবে থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠায়। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে হামলা চালানো হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি বিমানবন্দরে আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাঁরা জানান, হুথিদের হাতে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল।

ধারাবাহিক হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের ফলাফল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *