স্টাফ রিপোর্টার:
ইসলামে মসজিদ হলো ঐক্য, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের কেন্দ্র। এখানে মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সম্মিলিত ইবাদতের পরিবেশ বজায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কারণে যদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মতবিরোধ বা বিভাজন সৃষ্টি হয়, তা শুধু ধর্মীয় পরিবেশকেই নয়, বরং পুরো সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলাকেও প্রভাবিত করে। এমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ধলা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও বিভক্তি। ধলা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের ইমামকে ঘিরে মতবিরোধের জেরে মুসল্লিদের মধ্যে দুই পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা উপজেলার ধলা-যাত্রাবাড়ী বাজারের কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি জুনাইদ আহমেদ। তিনি দেশের প্রখ্যাত ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র এবং আলেম আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে তাকে ঘিরে সম্প্রতি এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইমামকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে দুটি পৃথক পক্ষ তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ তার অনুসারী হিসেবে কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করছেন, অন্য পক্ষ বিকল্প মসজিদে ইবাদত করছেন। এতে করে ধর্মীয় ঐক্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘মারকাযুল কুরআন আল ইসলামী’ নামক নতুন একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ঘিরেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান ধলা-যাত্রাবাড়ী দারুল উলুম মাদ্রাসার পাশাপাশি নতুন মাদ্রাসা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পাশাপাশি আশপাশের মাদ্রাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে ভর্তির চেষ্টা এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও প্রয়োজনে ভর্তির টাকা ফেরত দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা যায়, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মসজিদ থেকে ছুটি দেওয়া হলেও তিনি নিজ বাড়িতে না গিয়ে এলাকায় অবস্থান করেন। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এক মাসের ছুটি নিয়ে এলাকা ছাড়ার অনুরোধ এবং অগ্রিম দুই মাসের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, মসজিদের ইমাম মুফতি জুনাইদ আহমেদের বিরুদ্ধে উঠেছে অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ। একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, অতীতে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ও শ্লীলতাহানিমূলক আচরণে জড়িত ছিলেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্যচিত্র এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এ বিষয়ে মুফতি জুনাইদ আহমেদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন বিভাজন ও দ্বন্দ্ব নজিরবিহীন। এতে করে শুধু ধর্মীয় পরিবেশ নয়, এলাকার সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলাও হুমকির মুখে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মুফতি জুনাইদ আহমেদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চলমান এ বিভাজন দ্রুত নিরসন না হলে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আরও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ধলা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় আবারও স্বাভাবিক ও ঐক্যবদ্ধ ধর্মীয় পরিবেশ ফিরে আসে।