পেট্রোলের দাম কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

স্বাধীন সংবাদ আন্তর্জাতিক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির জ্বালানি খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে পেট্রোলের দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তার এ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের জন্য ‘বড় সমস্যা’ অপেক্ষা করছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে দাম কমাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত দাম আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। খুচরা বিক্রেতারা যদি দাম না কমায়, তাহলে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে। প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫০ ডলারে নামিয়ে আনুন।’

এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও পাম্প পর্যায়ে পেট্রোলের দাম সেই অনুপাতে কমানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেন। তার দাবি, কিছু তেল কোম্পানি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের জন্য জ্বালানির মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল থাকলেও, তা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে দায়ী করে আসছে।

তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *