বন্দর থানা পুলিশের অভিযানে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদক গ্রহণ বা ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আমির হোসেন ডালিম (৩৬) হত্যা মামলার মূল আসামি শিহাব হাবীবকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে বন্দর থানার শুভকরদী এলাকায় মাদক গ্রহণ বা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিরোধের জেরে আমির হোসেন ডালিমের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় শিহাব হাবীব ও তার এক অজ্ঞাতনামা সহযোগী ডালিমের পেটের বাম পাশে ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে আঘাত করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার পর ডালিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিহাব হাবীব ও তার সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ডালিমকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ আগস্ট ভোর ৫টা ২১ মিনিটে আমির হোসেন ডালিমের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান হোসেন (৪৮) বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিহাব হাবীবসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর দিকনির্দেশনায় এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ ঘাট এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শিহাব হাবীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর থানার শুভকরদী এলাকার জনৈক মো. মেহেরাজের চায়ের দোকানের পেছনে শাফি হাজীর একটি ফাঁকা জমিতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি স্টিলের রক্তমাখা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপর সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *